Home / রাজনীতি / ২০১৮-১৯ সালে প্রশ্নফাঁস হয়নি, গুজবও রটেনি সংসদে শিক্ষামন্ত্রী
dipu moni

২০১৮-১৯ সালে প্রশ্নফাঁস হয়নি, গুজবও রটেনি সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকারের কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়নি, গুজবও রটেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংসদ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রায় ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, অনলাইনে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন করেছিল। সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে প্রায় ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শর্ত পূরণ করায় তাদের বিবেচনা করা হয়েছে। দ্রুতই ওই ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সংসদে একই প্রশ্ন আমারও ছিল। অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কতগুলো তথ্য দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী শর্তগুলো পূরণ করায় তাদের যোগ্যতা নিরূপণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পুরো প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারাইজড। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকে অনলাইন আবেদন পেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আশা করছি খুব দ্রুতই এমপিওভুক্ত করতে পারব। কেননা বিষয়টি নিয়ে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ২ হাজার হয়ত পারব না, তবে ধাপে ধাপে যোগ্য ২ হাজার প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারব।

এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি

এদিন এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সময়োপযোগী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ২০১৮ সালের জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, এমনকি প্রশ্নের ফাঁসের গুজবও রটেনি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায়ও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।

মন্ত্রী জানান, পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ৩০ মিনিট পূর্বে সকল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সকল প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেক বিষয়ের সকল প্রশ্নপত্র সিকিউরিটি টেপযুক্ত একটি বড় খামে প্যাকেটজাত করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের সকল সেট নিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষার ২৫ মিনিট পূর্বে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নের সেট ঘোষণা ও সে অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরকারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুরোধ করা হয়।

কোচিং ব্যবস্থা বন্ধে নীতিমালা

মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উক্ত কমিটিগুলোর মনিটরিং-এর মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অতি সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত নীতিমালাকে আপহেল্ড করায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই ২০০৯ সাল থেকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে এক হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করেছে। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষা-কর্মচারীর কর্মসংস্থানসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বার্তা কক্ষ
১৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৯