Home / আন্তর্জাতিক / রক্তাক্ত নৃশংসতার তদন্ত অনুমোদনে আইসিসি : মিয়ানমারের প্রত্যাখান
myanmar-rohingya

রক্তাক্ত নৃশংসতার তদন্ত অনুমোদনে আইসিসি : মিয়ানমারের প্রত্যাখান

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

বৃহস্পতিবার আইসিসি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অনুমোদন করে।

১৫ নভেম্ব শুক্রবার এর জবাব দিয়েছে মিয়ানমার। তারা বলেছে, এই তদন্ত অনুমোদন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেয়া হয় নি। ইয়াঙ্গুন থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো আর্জেন্টিনায় আলাদা মামলা করেছে মিয়ানমারে গণতন্ত্রের সাবেক আইকন বলে পরিচিত বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচির বিরুদ্ধে এবং জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এসব মিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

কিন্তু মিয়ানমার বার বার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, জঙ্গিদের দমন করতে তারা ওই অভিযান পরিচালনা করেছে।

এ ছাড়া তারা বার বারই আইসিসির কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একই কথার পুনরাবৃত্তি করে তারা শুক্রবারও।

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সরকারের মুখপাত্র জাওয়া হতাই। তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে করা হচ্ছে না। কোনো রকম নিয়ম লঙ্ঘন হয়ে থাকলে তার তদন্ত করবে মিয়ানমারের নিজস্ব কমিটি এবং প্রয়োজন হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বাক্ষরকারী নয় মিয়ানমার। তা সত্ত্বেও গত বছর এই আদালত রায় দেয় যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে বিচার করার এক্তিয়ার তাদের আছে। কারণ, এসব শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এই দেশটি তাদের একটি সদস্য।

হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) সোমবার আলাদা একটি মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

এর পর পরই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অনুমোদন করে আইসিসি। ৫৭ জাতির ইসলামিক সহযোগিতামূলক সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনে গাম্বিয়া।

এ অভিযোগের প্রথম শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে ডিসেম্বরে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে অধিক আইনগত বিরোধের বিষয়ে সাধারণত দেখাশোনা করে আইসিজে। তবে তারা জাতিসংঘের কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগেও রুল বা রায় দিয়ে থাকে।

জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ মিয়ানমার। দেশটির মুখপাত্র জাওয়া হতাই বলেছেন, তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে জবাব দেবেন।

ওদিকে বুধবার আর্জেন্টিনায় মামলা করা হয়েছে মিয়ানমারের বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক নেত্রী ও নোবেল পুরস্কারবিজয়ী অং সান সুচি।

তবে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়ে আইনগতভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুচিকে এর মধ্য দিয়ে প্রথমবার টার্গেট করা হয়েছে।

‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ বা সার্বজনীন বিচারের আওতায় মামলা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন হলো এমন একটি আইনি মূলনীতি যার অধীনে অত্যন্ত ভয়াবহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিচার করা যায়, তা যেখানেই ঘটুক না কেন।

এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচি, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং সহ আরো কয়েকজনকে। রোহিঙ্গারা তাদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যে হুমকি মোকাবিলা করছে তার জন্য এসব নেতাকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।

এমন মামলা আর্জেন্টিনার আদালত অতীতেও গ্রহণ করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্পেনের সাবেক একনায়ক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঁঙ্কো, চীনেরফালুন গং মুভমেন্ট।

বার্তা কক্ষ, ১৬ নভেম্বর ২০১৯