Home / উপজেলা সংবাদ / হাইমচর / ময়নাতদন্তে বের হয়ে আসবে হাইমচরে প্রবাসী স্ত্রী আত্নহত্যার মূল রহস্য

ময়নাতদন্তে বের হয়ে আসবে হাইমচরে প্রবাসী স্ত্রী আত্নহত্যার মূল রহস্য

চাঁদপুরের হাইমচরে ২নং আলগী উত্তর ইউনিয়নের ছোটলক্ষীপুর গ্রামের মৃতঃ আঃ রহিম গাজীর ছোট ছেলে প্রবাসী আঃ মান্নান গাজীর স্ত্রী মিশু আক্তার ২ মার্চ সোমবার নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মানুষের মাঝে নানান গুঞ্জন চলছে।

এ ব্যাপারে প্রবাসী আঃ মান্নান গাজী’র জানান, আমি বিদেশে আসার পর মিশু প্রায় সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। আমি তাকে ঘুরতে যেতে মানা করলে সে ফোনে আমাকে মরে যাওয়ার হুমকি দিত। এ নিয়ে আমার সাথে কথায় কাটাকাটি হতো। তার সুখের জন্য আমার একমাত্র মাকে আলাদা করে দিয়েছি, যাতে তার সাথে মনমালিন্য না হয়। তার খালাত ভাই রাসেলের সাথে প্রায় সময় দুষ্টামি করতো তা বাধাঁ দিলে সে বিষের বটলের ছবি,ব্লেড দিয়ে হাত কেটে ও ফ্যানে ওড়না বেধে রাখা ছবি আমাকে পাঠাত। এ ছাড়া সে আমাকে ঘুমের ঔষুধ খেয়েও আত্নহত্যা করবে বলে হুমকি দিত। তার খালতো ভাই ঢাকা থেকে বাড়ি আসলে বাপের বাড়িতে চলে যেতো।

আরও পড়ুন… হাইমচরে প্রবাসীর স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা

প্রবাসী স্ত্রীর আত্নহত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকার এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। হাইমচর উপজেলার ছোট লক্ষীপুর গ্রামের প্রবাসী আঃ মান্নান গাজী ২ বছর পূর্বে উপজেলার মহজমপুর গ্রামের তোফাজ্জল পাটওয়ারী মেয়ে মিশু আক্তারের বিয়ে সংসার শুরু করেন। বিয়ের ৩ মাস পর মান্নান জীবিকার তাগিদে ফাঁড়ি জমান প্রবাসে।সংসার জীবনের স্বামী- স্ত্রীর মাঝে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে ফোনে কথায় কাটাকাটি থাকতো। মিশু’র সংসারে বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি ছাড়া আর কেউ ছিল না । মিশু তার শ্বাশুড়ির থেকে আলাদা করে থাকতেন।

এ ব্যাপারে ঘটনা সর্ম্পকে জানতে গেলে মোঃ মুসা গাজী’র স্ত্রী পিয়ারা বেগম জানায়,ঐদিন সকালে ঘর থেকে বের হয়ে মোবাইলে কথা বলে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেন। মিশু শ্বাশুড়ি এসে ঘরে দরজা বন্ধ দেখে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পর অনেক ভাবে খোজার চেষ্টা করি । সামনের থাই গ্লাস লাঠি দিয়ে সরালে দেখতে পাই মিশু ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলে আছে। পরে আমরা চিৎকার দিলে লোকজন ভিড়ে।

হারুন গাজীর স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মিশু অগ্রমেজাজের(চঞ্চল) মহিলা ছিলেন। সে কার সাথে মিশতো না, সারাক্ষণ ঘরেই থাকতো। কয়দিন পর পর বাপের বাড়ি চলে যেতো। তার শ্বাশুড়ির সাথে আলাদা ছিল তাই তাদের মাঝে কোন দিন ঝগড়া দেখিনি।

আঃ মান্নান গাজী বড় বোন নাজমা বেগম বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমার ছোট ভাইয়ের বউ মিশু’র গলা ব্যথা ও জ্বর ছিল। আমাকে মান্নান ফোন দিয়ে বলেছে কিছু টাকা নিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাতে। তার পরের দিন আমি তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করাই।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ নজির আহম্মদ দেওয়ান বলেন, আমার কাছে খবর আসলে আমি ও ২ চকিদার নিয়ে ঐ বাড়িতে যাই। আমার বাড়ির পাশে তাদের বাড়ি কোন দিন তাদের ঝগড়া-ঝাগড়ী অভিযোগ পাইনি। এটা সম্পূর্ন আত্নহত্যা এতে কোন সন্ধেহ নেই।

সকল কৌতূহলের অবসন ঘটবে মিশু’র ময়নাতদন্তের রির্পোট বের হলে। সেই অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

প্রতিবেদক:মোঃ ইসমাইল,৩ মার্চ ২০২১