Home / শীর্ষ সংবাদ / হাইমচর উপজেলায়ই বিক্রি হবে দেড় কোটি টাকার মরিচ

হাইমচর উপজেলায়ই বিক্রি হবে দেড় কোটি টাকার মরিচ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ইশানবালা, মনিপুর, গাজীপুর, বাজাপ্তি, চরশোলাদি ও কাইয়ুম খানের চরে বহু বছর ধরে মরিচ আবাদ হয়ে আসছে। আর এই মরিচ আবাদ করেই তাদের সন্তানদের পড়া-লেখার খরচ, কন্যাদের বিয়ে দেয়াসহ পারিবারিক খরচের অনেকাংশ মিটাতে হয়। অন্য কোন ফসল ভালো না হওয়ার কারণে চরাঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল মরিচ। সম্প্রতি উপজেলার চরাঞ্চল ঘুরে মরিচ আবাদের বিশাল এলাকা দেখাগেছে।

হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, এ বছর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ ৯শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের চরগুলোতে আবাদ হয়েছে ৭শ’ ৯০ হেক্টর।

আশ্বিন মাসের শেষে জমিতে মরিচের চারা লাগানো হয় এবং জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে ফলন শেষ হবে। এ বছর কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি করবে কৃষকরা।

ইশানবালা চরের কৃষক আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, তিনি এ বছর নিজের এবং বর্গাসহ প্রায় আড়াই একর জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। মরিচ উঠানো প্রায় শেষ।

উপজেলা সদরে এবং পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে তারা প্রতিকেজি মরিচ শুকনা ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা এবং কাঁচা বিক্রি করেছেন ৩০-৪০ টাকা কেজি।

একই এলাকার কৃষক জুলমু প্রধান বলেন, মাঝির বাজারসহ তাদের চরের কামাল, নাছির, হাবিব, সুলতান, সুরেশ ও শিকদার কান্দিতে প্রায় সকল জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে।

চরাঞ্চলে জমির পাশে কোন ধরণের বাঁধ না থাকায় দীর্ঘদিন মরিচই আবাদ করে আসছেন। আর মরিচ বিক্রির টাকা দিয়েই তাদের সংসারের অধিকাংশ খরচ মিটাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে আবার অনেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজ করেন।

কৃষক বাবুল পাইদ জানান, মরিচের পাশাপাশি অনেক কৃষক মৌসুমি সবজির আবাদ করেন। তবে পরিমানে কম। যদি কৃষি বিভাগ তাদেরকে মরিচ আবাদ কালিন সময়ে লাভজনক কোন ফসল করার প্রশিক্ষণ দেন এবং বীজ দিয়ে সহায়তা করেন তাহলে চরাঞ্চলের কৃষিতে আরো উন্নতি হবে।

হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার চরাঞ্চলসহ সকল ইউনিয়নে মরিচ আবাদ হয় এবং আবাদে খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি খুবই লাভজনক।

প্রতি হেক্টর জমিতে কমপক্ষে ১শ’ ৬৫ কেজি মরিচ উৎপাদন হয়। কৃষকরা প্রতি কেজি বিক্রি করেন ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা।

উপজেলার চরগুলোকে আধুনিক কৃষি প্রকল্প এলাকা তৈরী করার জন্য আমাদের কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এই উপজেলায় কৃষিভিত্তিক বড় ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে।

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৮ : ১৪ পিএম, ১৭ মে ২০১৭, বুধবার
এইউ

শেয়ার করুন
x

Check Also

Lone

চাঁদপুরের ব্যাংকগুলোতে ৮২ কোটি ২৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ

চাঁদপুরের ...