Home / রাজনীতি / বিএনপির নির্দেশনা উপেক্ষিত : মাঠে বিদ্রোহীরা

বিএনপির নির্দেশনা উপেক্ষিত : মাঠে বিদ্রোহীরা

‎Sunday, ‎April ‎19, ‎2015  01:59:47 AM

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক :

বিএনপিতেও দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। দলীয় সমর্থন না পাওয়া এই সব প্রার্থীর অনেকেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়েছেন।

এর মধ্যে কেউ কেউ গুলশানে গত শুক্রবার খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতেই দলীয় সমর্থনের আশায় বিক্ষোভ দেখান। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির পক্ষ থেকে একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর বাইরে কেউ ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী থাকতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদবলেন, ‘সিটি নির্বাচনে কিছু কিছু ওয়ার্ডে সমর্থন বঞ্চিতরা আমাদের নাম (বিএনপি) করে প্রচারণা চালাচ্ছে। জোটের তরফ থেকে ঘোষণা করতে চাই, দল থেকে-জোট থেকে আনুষ্ঠনিকভাবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে আমাদের সবাইকে তাদের পক্ষেই কাজ করতে হবে। তারাই আমাদের সমর্থিত প্রার্থী। এর বাইরে কেউ আমাদের প্রার্থী না।’

তবে দলের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।

ঢাকা সিটি উত্তরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে আছেন। দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রচারণা করছেন ফারুক হোসাইন ভূইয়া। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জুও মাঠে রয়েছেন।

সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের নিয়মে কোথাও লেখা নেই দলীয় সমর্থন লাগবে। আমি নির্বাচনের মাঠে আছি, দল থেকে আমাকে বসতে বলা হয়নি। আমার ফিল্ড আছে।’

দলীয় সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা দায়িত্বে আছেন তারা টাকা খেয়ে আরেক জনকে দলীয় সমর্থন দিয়েছেন।’

কারা টাকা খেয়েছে নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নাম বলতে পারব না।’

ঢাকা সিটি উত্তরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে আছেন। দল সমর্থিত প্রার্থী প্রিন্সিপাল আব্দুস সাত্তার। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী মো. মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমানের দাবি, ‘আমাকে দল থেকে বলা হয়েছে নির্বাচন করার জন্য, তাই আমি মাঠে নেমেছি। হঠাৎ করে অন্য আরেক জনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তাহলে কেন আমাকে দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ানো হল? আমি এলাকার মসজিদে মসজিদে ভোটারসহ সবাইকে বলেছি দলীয় সমর্থন পাব। এখন আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, এটা কী করে সম্ভব?’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ আমি বিএনপি করি, দলের নেতাকর্মীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকি।’

মিজানুর রহমান শুক্রবার বিকেলে গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। একই সময়ে ঢাকা সিটি উত্তরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিল প্রার্থী হিসেবে জোহরা রহমানও দলীয় সমর্থনের আশায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন নবী লায়মান।

এ ছাড়া ঢাকা সিটি দক্ষিণ ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথমে দলীয়ভাবে মো. শামছুল হুদা কাজলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে দুই বারের (সাবেক) কাউন্সিলর এডিএম মোস্তফা বাদশাকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। ওই ওয়ার্ডে মো. শামছুল হুদা কাজল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।

ঢাকা সিটি উত্তর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইঞ্জিনিয়ার কাজী আব্দুল লতিফ দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর মহিলা দলের যুগ্মসম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাবেয়া আলমও মাঠে আছেন।

রাবেয়া আলম বলেন, ‘আমি দলীয় সমর্থনের অপেক্ষা করে গত চার দিন ধরে মাঠে আছি।’

দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কার পক্ষে কাজ করব সেতো মাঠেই নেই, কোনো পোস্টার নেই, অফিস নেই!’

ঢাকা দক্ষিণের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথমে সাবেক কাউন্সিল কাজী আবুল বাশারের স্ত্রী মেহেরুন নেছাকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এ ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন আনোয়ার হোসেন।

দক্ষিণের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথমে মো. মামুন দলীয় সমর্থন পান। পরে তা পান হাজী আবেদ উদ্দিন আহমেদ। এখানে বিদ্রোহী হিসেবে মো. মামুন নির্বাচন করছেন।

দক্ষিণের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত ছিল। পরবর্তীকালে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন আব্দুল খায়ের বাবলু। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

এদিকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামকে প্রথমে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। পরে তার পরিবর্তে জাফর মো. সাদেকুর রহমানকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

একই ওয়ার্ডে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক আবু সাঈদ খান খোকন  বলেন, ‘কিছু ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী আছেন। অনেকেই নিজেকে জনপ্রিয় মনে করেন, তাই তারা বসতে চান না। আমরা চেষ্টা করছি তাদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য। যদি তারা না বসেন তাহলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মন মতো না হলে একটি অভিযোগ করে বসেন, ‘টাকা খেয়ে অমুককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তমুককে দেওয়া হয়নি’। এটা আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। তারপরও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

একই প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সেহেতু দল থেকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে কিছু ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে। তবে আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের পক্ষে একজনই থাকবে এবং সবাই তার জন্য কাজ করবেন।’

আর্থিক লেনদেন প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। হয়েছে বলেও আমি মনে করি না। তারপরও যদি হয়ে থাকে তাহলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ মিলে মোট ৯৩টি ওয়ার্ড। ২৮ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

চাঁদপুর টাইমস : এমআরআর/2015

নিয়মিত আপনার ফেসবুকে নিউজ পেতে লাইক দিন : https://www.facebook.com/chandpurtimesonline/likes