Home / সারাদেশ / বজ্রপাতে এক সপ্তাহে ৭১ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে এক সপ্তাহে ৭১ জনের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন স্থানে গত এক সপ্তাহে বজ্রপাতে অন্তত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগাম সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও এই প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যায়নি। গতকাল সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ব্র্যাক এই কর্মশালার আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে মমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দিন আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগাম সতর্কবার্তা অনুযায়ী সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হলেই সতর্কবার্তা কার্যকর হয়। এ ক্ষেত্রে সব স্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় বজ্রপাতে প্রতিবছর বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন তিন হাজার ৪৮৫ জন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, উচ্চ জনঘনত্বের কারণে কৃষক, শিশু-কিশোর ও নারীরা বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাণহানি কমাতে আগাম পূর্বাভাস জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি, বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, পূর্বাভাসের তথ্য সময়োপযোগী না হলে তা কার্যকর হয় না। তাই কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই এমন তথ্য দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যুহার কমাতে সময়মতো পূর্বাভাস এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি দেশের বজ্রপাতের প্রবণতা, ঝুঁকি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এতে রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস), ইউএনডিপি, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বজ্রপাত মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির প্রধান খন্দকার গোলাম তৌহিদ। পরে প্যানেল আলোচনায় বক্তারা দুর্গম এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং জনসচেতনতার ঘাটতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।