Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে তদন্তে গিয়ে অপদস্থ তদন্ত কর্মকর্তা
তদন্তে

ফরিদগঞ্জে তদন্তে গিয়ে অপদস্থ তদন্ত কর্মকর্তা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে অপদস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গত ৩ মার্চ কলেজটিতে যান দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা শাকিল হাসান ও মোহনা টেলিভিশনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মো. ফাহাদ।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় কলেজের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক শাকিল হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন এবং পরবর্তীতে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

এ ঘটনায় কলেজের সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে দায়িত্ব দেন।

তদন্তের জন্য প্রথমে গত ৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই সেদিন তদন্তে উপস্থিত হননি। পরে পুনরায় ১২ মার্চ তদন্তের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলেও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে গেলে কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া আপত্তি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিসি পদমর্যাদার অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে সমমর্যাদার কর্মকর্তার প্রয়োজন।”

এ সময় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে তিনি মানহানির মামলার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি কলেজের প্যাডে সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য লিখে দিয়ে তদন্তে অংশগ্রহণ না করেই স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে আমি বিষয়টি জেনেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তার তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন, বিষয়টি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১২ মার্চ ২০২৬