Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিষ্পাপ ফুলকে রেখে পালালো মা
shishu

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিষ্পাপ ফুলকে রেখে পালালো মা

‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি’ গোবিন্দ হালদার রচিত এবং আপেল মাহমুদের সুরের দেশাত্মবোধক বাংলা গানের সে আহবান অনেকেরই জানা।

কিন্তু পাপের মোহে অথবা কোনো এক অজানা কারণে সেই এক নিষ্পাপ ফুলকে রেখে পালিয়েছেন চাঁদপুরের এক মা।

আড়াই,শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ১৪ দিনের নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নানাজন শিশুটি ও তার পরিবারকে নানা মন্তব্য করছেন।

গত ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের ৩য় তলার শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর রাত ১০ টায় চাঁদপুর শহর তলীর বাবুরহাট গ্রামের তাজুল ইসলামের মেয়ে পরিচয় দিয়ে নীলা (সাথী) নামের এক নারী ১৪ দিন বয়সী ওই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

এর একদিন পর গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার পর তাকে আর ওই নবজাতকের বেডে দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলে সবাই বুঝতে পারেন ওই নারী শিশুটিকে রেখে পালিয়েছে।

ধারণা করা হয়েছে ওই নারী তার সঠিক পরিচয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করেননি। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিনকে অবগত করেন।

পরে থানার এস আই রাশেদুজ্জামান ও চাঁদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এমন একটি নিষ্পাপ নবজাতককে রেখে মায়ের পলায়নের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন, হয়তো কোন অবৈধ সন্তানের অপবাদ থেকে নিজের মান সম্মান বাঁচাতে ওই নারী শিশুটিকে রেখে পালিয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে বেওয়ারিশ শিশুর খবর শুনে শহরের বিভিন্নস্থান থেকে অনেকই ছুটে গেছেন শিশুটিকে নিয়ে যেতে। কিন্তু সবশেষে কার ভাগ্যে জুটে এই নবজাতক সেটা বিধাতাই ভালো জানেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার এস আই রাশেদুজ্জামান চাঁদপুর টাইমসকে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ওসি স্যারকে জানালে, স্যার চাঁদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরে বিষয়টি অবগত করেন। তারপর আমি এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের লোকজন হাসপাতালে ঘটনার সত্যতা জানতে পারি। শিশুটিকে অনেকেই নিতে চেয়েছেন। সে বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রতিবেদক : কবির হোসেন মিজি, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯