Home / চাঁদপুর / ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৭৩ জন কোয়ারেন্টাইনে

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৭৩ জন কোয়ারেন্টাইনে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জে ১২৪ জন নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। এর মধ্যে হাইমচর উপজেলায় ৪৯ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

চাঁদপুর সদরের ২৪ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। বাকিদের বিষয়ে কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, হাইমচর উপজেলায় চরভৈরবী, চরভাঙ্গা, মহজমপুর, আলগী, নয়ানী গন্ডামারা ও পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর গ্রামে বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত ৫০ জন এসেছেন। এর মধ্যে ৪৯ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাইমচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেজবা উল আলম ভুঁইয়া জানান, আক্রান্ত জেলা থেকে আগতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝানো হয়েছে। তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনের রাখার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ নজরদারিতে রেখেছেন।

সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন ২১ জন। এসব লোকদের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী।

সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামের দাস বাড়িতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন তিনজন। তাদেরকে বাড়ি থেকে আলাদা করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী। তিনি বুধবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে মো. রাসেল খান (২৫) নামে একজন এসেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই বাড়ি লকডাউনের ব্যবস্থা করেন। ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন দুইজন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলি হরি বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে বলেন, প্রাপ্ত তথ্যে এ পর্যন্ত আক্রান্ত জেলা থেকে ফরিদগঞ্জের পাঁচ ইউনিয়নে এসেছেন ৪৭ জন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং পশ্চিম গুপ্টি ইউনিয়নের লোকজন জানান, আদশা গ্রামের হাজি বাড়ি, মোল্লা বাড়ি, পাঁচকড়ী মিজি বাড়ি, পাঠান বাড়ি, লাউতলী মিজি বাড়ি, লাউতলী তপাদার বাড়ি, লাউতলী জমাদার বাড়ি, খাজুরিয়া লদের বাড়িসহ আশাপাশের গ্রামে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় অর্ধশত লোক এসেছেন। এদের মধ্যে অনেকে নারায়ণগঞ্জ পলি ক্যাবল কারখানায় কাজ করতেন। তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভূঁইয়া।

এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলায় মো. কাউছার হামিদ নামে একজন এসেছেন সোনারগাঁ থেকে। তিনি উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের কাজিরখিল বেপারী বাড়ির বিল্লাল হোসেন বেপারীর ছেলে। তবে তিনি সরকারি নির্দেশ মানছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, কাউছার হামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুরবাসীকে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় আক্রান্ত জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ও পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান।

করেসপন্ডেট,৯ এপ্রিল ২০২০