Home / জাতীয় / জেলা হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ : একনেকে প্রধানমন্ত্রী
Hasina-Pm-
ফাইল ছবি

জেলা হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ : একনেকে প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এ অবস্থায় দেশের সব জেলা হাসপাতালে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন, সার্বক্ষণিক হাইড্রো অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর স্থাপন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়টি জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিউ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। শুধু স্থাপনই নয়, আইসিউতে যা থাকার কথা সেসব যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করতে হবে। এর সঙ্গে সহায়ক ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ সুযোগ-সুবিধা যেটা দরকার, সেটাও দিতে হবে। যেসব যন্ত্রপাতি কিনতে হয়, তা দ্রুত কিনতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

মঙ্গলবার ২ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয় তুলে ধরেন।

একনেক সভায় ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ১০ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে সভার সভাপপিত্ব করেন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্ড অ্যান্ড প্যানডেমিক রেসপন্স প্রকল্প’ নামে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্প দু’টি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান যেন সব হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে তিনি হাইড্রো অক্সিজেন সরবরাহকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার (প্রধানমন্ত্রী) আলোচনায় ভেন্টিলেটর স্থাপনেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনকে উচ্চতর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে শুধু আইসিইউ স্থাপন নয়, এটাকে ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। একটা আইসিইউতে যেসব যন্ত্রপাতি থাকার কথা, সেগুলো সরবরাহ করতে হবে। অতি জরুরিভিত্তিতে এগুলোকে আপডেট করতে হবে। ভেন্টিলেটর দিতে হবে যেখানে যা প্রয়োজন।

এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আইসিইউ শুধু স্থাপনই নয়, এর সঙ্গে সহায়ক ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেছেন। এজন্য যেসব যন্ত্রপাতি কিনতে হয় তা দ্রুত কিনতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার ১, ২, ৬, ৮ ও ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, ওখানকার মানুষ চিংড়ি চাষ করে আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো কেটে ফেলছে। সাগর থেকে পানি আটকানোর জন্য যার যার সুবিধা মতো কেটে ফেলে। তারা লবণ পানি ঢুকায়। আমার সামনে আমি ওনার সামনে উনি, আলাদা আলাদা বাঁধ কাটে এতে বাঁধের ক্ষতি হয়। তারা লাভ করে ঠিকই কিন্তু আমাদের ক্ষতি হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বাঁধ নির্মাণ করি। এমন যত্রতত্র বাঁধ কাটা রুখতে হবে। তারা চাষ করে করুক। সবাইকে একত্র করে সব চাষি এক জায়গায় পানি ঢুকিয়ে নিক, তারা ভাগ করে নিয়ে যাক এবং খরচটা যেন তারা আনুপাতিক হারে দেয়। আনুপাতিক হারে খরচ দিয়ে যেন তারা পানি নেওয়ার ব্যবস্থা করে। জায়গায় জায়গায় যেন না কাটে। এটা রুখতে হবে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ বিষয়টা দেখার জন্য। এছাড়া ফসলের ডাইভার্সিফিকেশনের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় ‘প্রাথমিক উপবৃত্তি (তৃতীয় পর্যায়)’ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়টি যেন প্রকল্প পর্যায়ে না থাকে, প্রয়োজনে সরাসরি বাজেট প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন যেন এটাকে আমরা প্রকল্পে রাখি, এখন এটা রাজস্ব খাতে নিয়ে যাব। এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া ‘কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিকতর লাভজনক করা’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করব, কৃষিকে আমরা কমার্শিয়ালাইজ করব, কৃষিকে আমরা ডাইভার্সিফাই করব। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সঙ্গে মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরি ও ডিজেল প্ল্যান্টের একটা লিংক স্থাপনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।’

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএআরআই যেসব যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করছে সেগুলো যেন মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরিতে অথবা ডিজেল প্ল্যান্টে তৈরি করা যায় এ দুটোর মধ্যে একটা সংযুক্তি চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। যেন মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরির সঙ্গে সংযুক্তি হয়। এটার ব্যপারে পদক্ষেপ নিতে কৃষিমন্ত্রী ও অন্যদেরও বলেছেন তিনি।’

ঢাকা ব্যুরো চীফ , ৩ জুন, ২০২০
এজি

ইন্টারনেট কানেকশন নেই