Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দিয়ে বিপাকে পরিবার
Child Marrige
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দিয়ে বিপাকে পরিবার

চাঁদপুরে ৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে বিয়ে দিয়ে বিপাকে পরেছে মেয়ের বাবা ও তার পরিবার। প্রবাসী ছেলের কাছে গোপনে বাল্য মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বর্তমানে সচেতন এলাকাবাসীর কটু কথা এবং আইনী জটিলতা এড়াতে ওই পরিবারটি এলাকা ছাড়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া গাবতলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে । বাল্য বিয়ের শিকার সোমা আক্তার স্থানীয় ১০৬নং সাদুল্লাহপুর সাপদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় শেখ বাড়ির মো. মোক্তার শেখ গত ২০ জানুয়ারি তাঁর ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া ছোট মেয়েকে একই ইউপির ৭নং ওয়ার্ডস্থ প্রতিবেশী গ্রামের গাজী বাড়ির (আত্মীয়) মো. নুরুল ইসলাম গাজীর প্রবাসী ছেলের কাছে বিয়ে দিয়ে দেন।

মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত না হওয়ার এবং তার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকায় স্থানীয় একজন মেম্বারের সহযোগিতায় গোপনে ঘরোয়াভাবে বিয়ের কাজ শেষ করেন। এই বিয়ের কাজী ছিলেন সাইদুর রহমান কাজী।

এক পর্যায়ে ৫ম শে্িরণর ছাত্রী বিয়ের এই খবরটি এক কান দু’কান করে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে কৌতুহলী এলাকাবাসী মুক্তার শেখের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করে। তাছাড়া ছোট্ট মেয়েটিকে বিয়ে দেয়ায় এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের কটু কথার শিকার হন।

খবর শুনে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কতৃক গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয় মেয়ের বাড়িতে। এতে করে লোকলজ্জা এবং আইনী জটিলতা এড়াতে মো. মোক্তার শেখ ও তার পরিবার অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সোমা আক্তারের মামাতো ভাই রুবেল বলেন, ‘প্রায় ২ মাস আগে এই বিয়েটা হয়েছে। সোমার বাবা গরিব মানুষ তাই মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া আমরা সবকিছু ম্যানেজ করেছি।’

স্থানীয় ছিদ্দিক মেম্বার জানান, ‘ওই গ্রামে অল্প বয়সের একটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে আমি শুনেছি। মেয়েটির পরিবার খুবই অসহায় ও গরীব। তবে আগে শুনলে এ বিয়ে আমরা ঠেকাতে পারতাম।’

এ বিষয়ে ১২নং চান্দ্রা ইউপির চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কারু জানায়, ‘বিষয়টি আমি লোক মাধ্যমে জেনেছি এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেয়ের বাড়িতে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু গ্রাম পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মেরের মা ও বাবাকে পায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করবো বলে শপথ নিয়েছি। তাছাড়া বর্তমান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাদক ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রতিটা ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন। অথচ এতকিছুর পরেও যদি বাল্য বিয়ে রোধ করা না যায় তবে বিষয়টি দুঃখজনক।’

আশিক বিন রহিম
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১১:৪৩ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
ডিএইচ

শেয়ার করুন