Home / চাঁদপুর / আজ চাঁদপুরে ৪০ গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদ উৎসব ও কোরবানি

আজ চাঁদপুরে ৪০ গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদ উৎসব ও কোরবানি

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে রোববার (১১ আগস্ট) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ওইসব গ্রামগুলোর প্রায় লক্ষাধিক অনুসারি ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। সাথে সাথে প্রত্যেকের সাথে পশু কোরবানি করবেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের পীর বাড়ির সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, রোববার সৌদি আরবে ঈদ তাই সাদ্রাসহ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

১৯২৮ সালে হাজিগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবারের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহঃ) প্রথম বাংলাদেশে এ মতটি চালু করেন। পরবর্তীতে তাঁর অনুসারী হয়ে এসব অঞ্চলের মুসলমানগন চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পালন করে থাকেন।

এসব অঞ্চলের ঈদগাহের ইমামগণ সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবের ভূ-খ- অনেকটা উচ্চতা থাকায় সৌদি আরব বাসিন্দারা সাধারণত আগে চাঁদ দেখে থাকেন এছাড়া এসব অঞ্চলের ইমামগণ বিজ্ঞানগত আরো যুক্তি পেশ করে বলেন বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সময়গত পার্থক্য ২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড তাই আমরা বাংলাদেশে ইসলামের অনুসারী হয়ে সামান্য সময় পার্থক্যের কারণে রোজা ও ঈদ পালনে ১দিন অপেক্ষা করতে পারেন না।

উক্ত মতের প্রবক্তা মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহঃ) ফতোয়ার কিতাব অনুসারে আরো জানা যায় মাজহাবের মাসায়ালা ভিন্নতায় তিনি এ মতটি চালু করেন। তিনি ইমামুল আজম আবু হানিফা (রহঃ) এর মাসায়ালা “পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা ও ঈদ পালন কর” এর অনুসারে তিনি তাঁর মতটি সকলের নিকট প্রসিদ্ধ করার চেষ্টা করার পাশাপাশি পালন করতেন।

যদিও মতটি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশের আলেমগণ গ্রহণ না করে রাসূল (সঃ) এর হাদীস “চাঁদ দেখে রোজা রাখ ও চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কর” এর অনুকরণে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর ফতোয়া পরিবর্তন করেন। তাই বাংলাদেশের ইজতেহাদী (গবেষক) ওলামায়ে কেরামগণ ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন উক্ত ফতোয়া গ্রহণ করেন নি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক বছরগুলোতে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও এখন আর তা হচ্ছে না। তবে প্রতি বছর দু’ঈদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থতি সুষ্ঠ রাখার স্বার্থে ওইসব অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এ বিষয়ে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আবু জোফার আব্দুল হাই জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নিয়ম চালু করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে ১৯২৮ সাল থেকে একদিন আগে এই প্রথা চালু করলেও এখন ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দেশের নিয়মের বাইরে অর্থাৎ একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

সাদ্রা ছাড়াও জেলার ৪০টি গ্রামের একাংশে ওই পীরের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করেন। গ্রামগুলো হচ্ছে- হাজীগঞ্জের বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জের শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এছাড়া চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ১১ আগস্ট ২০১৯