Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে নেশায় আসক্ত হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা: অকালে ঝরছে প্রাণ

চাঁদপুরে নেশায় আসক্ত হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা: অকালে ঝরছে প্রাণ

চাঁদপুরে আইকা গামের ড্যান্ডি নেশার প্রতি আসক্ত হচ্ছেন ছিন্নমূল কিশোর-কিশোরীরা। টোকাই নামক যুবক, যুবতী, কিশোর-কিশোরীরা দিন দিনই এই নেশার প্রবনতা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে বাড়ছে চুরি ছিনতাইসহ নানা অপ্রতিকর ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে উঠতি বয়সী ছিন্নমূল কিশোর-কিশোরীরা।

বেশ কয়েক বছর ধরে চাঁদপুর শহরের বিভিন্নস্থানে এই আইকা গামের ড্যান্ডি নেশার কার্যক্রম চলে আসছে।

প্রায়ই দেখা যায় চাঁদপুর রেলওয়ে কোট স্টেশনে অবস্থানরত এবং অন্যান্য স্থানের টোকাই ও ভিক্ষুক এবং ছিন্নমূল পথ শিশু, কিশোর কিশোরীরা শহরের বিভিন্ন হার্ডওয়ারের দোকান থেকে জুতা ফরমিকায় লাগানো আইকা গাম ক্রয় করে তা পলিথিনে ঢুকিয়ে নাক, নাক ও মুখ দিয়ে সেই গামের গ্যস টেনে নেশায় আসক্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন…চাঁদপুর শহরে খাল থেকে ‘নেশাগ্রস্ত যুবকের’ লাশ উদ্ধার

বিশেষ করে কালী বাড়ি কোট স্টেশন, রেলওয়ে বড় স্টেশন এবং ছায়াবানী মোড়ের বিভিন্নস্থানে ঝোঁপ ঝাড়ে কিংবা গাছের ডালে বসে তারা এই মাদকে আসক্ত হচ্ছেন। এদের বয়স ১০/১২ বছর থেকে শুরু করে ১৫/১৬ বছর বয়সী।

আইকা গামের এই মাদকের জন্য কোন কোন কিশোর কিশোরী আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে। কেউ, কেউ এই নেশার জন্য নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে নিজ জেলা থেকেও পালিয়ে এসেছেন চাঁদপুরে।

তারা চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের ১ টি ও বড়স্টেশন এলাকার কয়েকটি হার্ডওয়ার দোকান থেকে এইসব গাম ক্রয় করে বলে জানা গেছে। যেখানে এক কৌটা গামের দাম ৬০ টাকা। সেখানে ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা টোকাইদের কাছে তা বিক্রয় করে ৯০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে ওই গাম বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এমনও ঘটনার রয়েছে যে, চাঁদপুর শহরের বিভিন্নস্থানে পলিথিন দিয়ে আইকা গামের নেশায় আসক্ত হওয়ার সময় চাঁদপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক সূফী খায়রুল আলম খোকন বেশ কয়েকবার বেশ কয়েকবার আটক করেছেন।

ওই সময় ছোট এক কিশোরী যার বয়স ১২/১৩ বছর হবে। সে জানায় তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ মুক্তার পুর, সে আগে ঢাকার সদর ঘাটে থাকাবস্তায় এই নেশায় আসক্ত হয়। ৩/৪ বার তার বাবা মা তাকে ধরে নিয়ে বাড়িতে শিকল দিয়ে আটকিয়ে রাখতো,ড্যান্ডির নেশার টানে সে সেই শিকল খুলে পালিয়ে যেতো, এবার সে কয়েক মাস আগে চাঁদপুরে এসে যমুনা রোডে একটি রুম ভাড়া নিয়ে ওই এলাকার আরেকটি কিশোরী মিলে বোতল খুড়িয়ে যা পায় তা দিয়ে গাম কিনে নেশায় আসক্ত হন।

সে জানায়,আমি দিনে ৪/৫ বার নেশা না করলে আমি থাকতে পারি না। এই গ্রুপের দলনায়কের বয়স ১৭/১৮ বছর হবে আর সবার বয়স ১২ থেকে ১৫। এভাবেই তারা দলের সদস্য বাড়িয়ে আইকা গামের ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত হন।

৮ নভেম্বর চাঁদপুর শহরের এসবি খাল থেকে মোঃ ইউসুফ বেপারী ওরফে খোকা (২৫) নামে এক ছিন্নমূল যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। সেও এই ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তাই চাঁদপুর শহরের এসব ছিন্নমুল পথ শিশু, কিশোর, কিশোরীদের ড্যান্ডি নেশার প্রতি খুবই জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নয়তো দিন দিনই এর প্রবনতা আরো বেড়ে যাবে,নষ্ট হবে এইসব ছিন্নমূল কিশোরী কিশোরী,অকালে ঝরে যাবে কতনা প্রাণ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার জানান, আমরা ইতিমধ্যে চাঁদপুর শহরে কিশোর গ্যাং রোধ করতে গুরত্ব সহকারে কাজ করছি। একই সাথে গাঁজা, ইয়াবা সহ যেসব মাদক গুলো বেশি ছড়াছড়ি সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আজকের পর থেকে কোন শিশু কিশোর রাস্তায় বিনা কারনে ঘুরাঘুরি এবং যেখানে সেখানে বেপরোয়া ভাবে অবস্থান করতে পারবে না। এই বিষয়েও আমরা কাজ শুরু করেছি।

আরও পড়ুন…চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদক দমনে সাঁড়াশি অভিযান: আটক ১১

তিনি জানান, আজকের একটি মৃত্যুর ঘটনায় আমরা এই আইকা গামের ডান্ডি নেশার কথা জানতে পেরেছি তাই আমরা আজ থেকে এই বিষয়টির উপরেও গুরুত্ব সহকারে কাজ করবো।

প্রতিবেদক:কবির হোসেন মিজি,৯ নভেম্বর ২০২০