Home / সারাদেশ / কুমিল্লার শালবন বিহারে উৎপাদিত শাক-সবজি বিতরণ

কুমিল্লার শালবন বিহারে উৎপাদিত শাক-সবজি বিতরণ

কুমিল্লায় পর্যটন কেন্দ্রে শাক-সবজী চাষের মতো চমৎকার ও ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ৮ আগস্ট শনিবার তাদের উৎপাদিত এসব শাক-সবজী আনুষ্ঠানিক ভাবে বিতরণ করা হয়।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন পর্যটন কেন্দ্র শালবন বিহার। দীর্ঘ করোনা কালে এই ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রটি সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকায় দেশী-বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগমও বন্ধ রয়েছে এখানে।

কিন্তু এসময়টিতেও অলস বসে নেই এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা শালবন বিহারসহ এই এলাকার দর্শনীয় স্থান গুলো পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন দর্শনার্থীদের উপযোগী করে রাখেন। পাশাপাশি এখানকার আঞ্চলিক পরিচালকের নির্দেশে শালবন বিহার সংলগ্ন গাড়ি পার্কিং মাঠের ফাঁকা জায়গাসহ আসপাশের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে শুরু করেন মৌসুমী শাক-সবজীর আবাদ।

এখানকার পাহাড়ী লাল মাটি ঊর্ব্বর ও চাষাবাদের জন্যে বেশ উপযোগী। ফলে শাক-সবজী আবাদ করে ভালো ফলনও পান তারা। বিগত শীত মৌসুম থেকে শুরু কওে এখন পর্যন্ত তারা লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের শাক-সবজী উৎপাদন করেন। যা প্রত্নতত্ত্ব অধীদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও বিতরণ করা হয়।

৮ আগস্ট শনিবার দুপুরে তেভাগা নীতিতে উৎপাদিত শাক-সবজী উপকারভোগী পাশ্ববর্তী বৌদ্ধ পল্লী এলাকার ২০ জন, স্থানীয় ৩০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক শ্রমিকের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিতরণ করা হয়।

বিতরণ করেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোঃ আতাউর রহমান। এ সময় শাক সবজি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান (অ.দা.) মোঃ হাফিজুর রহমান, বুকিং সহকারী মঞ্জুর হোসেন, লক্ষণ দাস, আবদুল্লাহ আল মামুন।

এব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা মোতাবেক করোনা পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য খাদ্যঘাটিতি মোকাবেলায় শালবন বিহার গাড়ি পার্কিং মাঠ সংলগ্ন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত খালি জায়গায় শাকসবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মহামারী করোনার এই সংকট কালীন সময়ে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখার স্বার্থে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে এসব উৎপাদন করা হয়। যা তেভাগা নীতিতে চাষকৃত এসব শাক-সবজীর একটি অংশ স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ, একটি অংশ চাষাবাদের সাথে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রি করে উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

তিনি বলেন, গত ৫ মাস ধরে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা গুলোতে পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গায় শাক-সবজি উৎপাদন করে আশেপাশের মানুষের মধ্যে বিতরণ করে আসছি; তারই ধারাবাহিকতায় শালবন বিহার গাড়ি পার্কিং মাঠের ফাঁকা জায়গায় উৎপাদিত শাক-সবজি শনিবার বিতরণ করা হয়।

প্রতিবেদক:জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, ০৮ আগস্ট ২০২০

ইন্টারনেট কানেকশন নেই