Home / লাইফস্টাইল / কান ধরে উঠা-বসা মস্তিষ্কের সেরা ব্যায়াম!

কান ধরে উঠা-বসা মস্তিষ্কের সেরা ব্যায়াম!

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার মাধ্যমে সুপারব্রেন ইয়োগা’র আবিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিন মিনিটের এই ইয়োগা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।

আপনি কি ভাবছেন? খুবই জটিল ও কুটিল টাইপের কিছু হবে ইয়োগাটি। মজার ব্যপারটা এখানেই। এই ইয়োগাটি একদমই জটিল কিছু নয়। শুধু মাত্র কিছু সময় নিজের কান ধরে উঠা-বসা করতে হবে! অবাক হচ্ছেন? গবেষকদের কাছে এটিই সুপারব্রেন ইয়োগা।

ড. কোয়ি পি. জোন্স ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার রেডিওলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের বিশেষজ্ঞ। তার গবেষণায় বলা হয়, কান ধরে উঠবস করাটাও এক ধরণের ব্যায়াম। দেহের শক্তির কেন্দ্রকে ব্যবহার করা হয় এ কাজে। এর মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় শক্তি শোষণ, হজমশক্তি। প্রাথমিকভাবে আকুপাংচার পয়েন্টই এই শক্তির আধারগুলো। আকুপ্রেসারের এই শক্তি ক্রিয়াশীল হয় মস্তিষ্ক, চোখ, কপাল, মুখ, কান ইত্যাদি স্থানে। আকুপ্রেসার পৌঁছে দেওয়া হয় মস্তিষ্কে কান ধরা বা হালকাভাবে টানার মাধ্যমে। এই ব্যায়ামের ফলে ইইজি স্ক্যানে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ডান ও বাম গোলার্ধের এলোমেলো অবস্থা নিমিষেই গোছালো হয়ে যায় এই ব্যায়ামের পর।

দেহের নিচের দিকের শক্তির আধারগুলো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঠিকমতো সুপারব্রেন ইয়োগার মাধ্যমে। হৃদযন্ত্রে এই শক্তি ক্রিয়াশীল হয়। এরফলে শান্তভাব চলে আসে এবং দেহ-মনে শান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আর এর মাধ্যমেই বুদ্ধিমত্তা এবং সৃষ্টিশীলতা বাড়ে।

সুস্থ্য থাকার জন্য এখন বিভিন্ন ব্যায়াম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মস্তিষ্ক উন্নত করা যায় সুপারব্রেন ইয়োগার মাধ্যমে। প্রতিদিনের অনেক সমস্যাও মিটে যাবে এর ফলে। তাই কান ধরে উঠবস কুরায় আর লজ্জা নয়। গবেষনা বলছে আপনি হয়ে উঠবেন আরো স্মার্ট এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এর মাধ্যমে।

ব্যায়ামের পদ্ধতি:

১) কানে কোনো অলংকার থাকলে তা প্রথমেই খুলে ফেলুন।

২) মুখ বন্ধ রেখে জিহ্বা ঠোঁটের সঙ্গে ছুঁয়ে রাখুন।

৩) এবার বাম হাতে ডান কান এবং ডান হাতে বাম কান ধরুন। কানের লতি যাকে বলি সেখানে ধরবেন। উভয় কাজে বুড়ো আঙুল সামনের দিকে থাকবে।

৪) এবার নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং বসে পড়ুন ধীরে ধীরে।

৫) শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে একইগতিতে দাঁড়িয়ে পড়ুন।

৬) অন্তত ১৪ বার ধীরে ধীরে একই কাজ করুন। মোটামুটি মিনিট তিনেক করতে পারলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলো সর্বোচ্চ শক্তি ফিরে পাবে।