Home / জাতীয় / মিরপুরে করোনায় আরেকজনের মৃত্যু : চিকিৎসা দেয়া ডাক্তারও অসুস্থ
Dead-Body

মিরপুরে করোনায় আরেকজনের মৃত্যু : চিকিৎসা দেয়া ডাক্তারও অসুস্থ

রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো এক বৃদ্ধ (৭০) মারা গেছেন বলে দাবি তার পরিবারের। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রবিবার রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

টোলারবাগের যে ব্যক্তিশনিবার রাতে মারা গেছেন, তাঁর সঙ্গে আজ যিনি মারা গেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি থাকতেন তাঁদের পাশের ভবনে।

পরিবারের দাবি, মৃত ব্যক্তির শরীরে নোভেল করোনা ভাইরাসের সবগুলো লক্ষণই ছিলো। এমনকি ওই এলাকায় এর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে একই মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন তিনি। মৃত ব্যক্তি স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন।

পুলিশের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস পজিটিভ ছিল বলে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) নিশ্চিত করেছে। আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে তার দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

টোলারবাগ এলাকার ভবন মালিক সমিতির সভাপতি শুভাশিষ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তি উত্তর টোলারবাগের বাসিন্দা এবং সেখানকার দারুল ইহসান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বলেন, আগের দিন মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালে করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তির প্রতিবেশী ছিলেন এই বৃদ্ধ। তারা দুজনই একই মসজিদে নামাজ পড়তেন। দুজন খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, ওই ব্যক্তির দুদিন ধরে কাশি হচ্ছিল। খাওয়ার রুচি চলে গিয়েছিল। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গতকাল শনিবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে কিছু নমুনা সংগ্রহের পর চিকিৎসকেরা বাসায় পাঠিয়ে দেন। সকালে আইইডিসিআর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে। রোববার বিকেল থেকে তাঁর শরীর আবার খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্টে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পর রোগীর উপসর্গ শুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক তাঁকে হাসপাতালে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাঁরা আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে কুর্মিটোলায় যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সায়েন্স ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।

এদিকে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে আসা ওই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার রোববার রাতে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট নিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে কুয়েত মৈত্রীর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ডেল্টা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, টোলারবাগ থেকে আসা যে রোগী শনিবার হাসপাতালে মারা যান, তাঁকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। শনিবার প্রথম তিনি শ্বাসকষ্টের কথা জানান। আইইডিসিআর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছে। রোববার বিকেল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।

রাজধানীতে যে কটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল তার একটি। (তথ্যসূত্র- প্রথম আলো, যুগান্তর ও ইত্তেফাক)

বার্তা কক্ষ, ২২ মার্চ ২০২০

ইন্টারনেট কানেকশন নেই