Home / চাঁদপুর / আইন যদি অবিচার করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো

আইন যদি অবিচার করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো

আশিক বিন রহিম :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ আটককৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে চাঁদপুরে সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।

(১৯ আগস্ট) বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাব মিলনায়তে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. সেলিম উল্লাহ সেলিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা জানেন বর্তমানে বাংলাদেশে একটি অগণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। আর যখন জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিরর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন করে যাচ্ছে। ঠিক সে মুহূর্তে অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকার পুলিশ বাহিনী উপর নির্ভর করে বিরোধী দল দমনে নেমে দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আপনারা দেখেছেন, বিগত দিনগুলোতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহা-সচিবসহ দলের সিনিয়র নেতা এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা হামলা দিয়ে দমন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এর পরেও ২০দলীয় জোট যখন সকল ভয়কে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন শুরু করে অবৈধ সরকারের পেটুয়া সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতৃবৃন্দের উপর হমলা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৮ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ ৩ জন সিনিয়র নেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক দেখিয়ে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আপনারা জানেন যে যেই মিথ্যা মামলায় শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে আটক করা হয়েছে সেই ঘটনার দিন তিনি চাঁদপুরে ছিলেন না। তিনি ব্যবসার কাজে ঢাকায় ছিলেন। অথচ শুধু মাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমাদের প্রিয় নেতাকেসহ বহু নেতাকর্মীকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার পরেও শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মহামন্য হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আবারো আইনের প্রাতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নি¤œ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন।’

সম্মেলনে আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিলো আদালতের কাছে আমরা সঠিক বিচার পাবো। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে আদলত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আইনের ভাষায় রয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রতি নি¤œœ আদালত শ্রদ্ধাশীল থাকবে। অথচ নি¤œ আদালকত আমাদের প্রতি অবিচার করেছে। আইন যদি অবিচার করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো? বিগত দিনে চাঁদপুরে প্রায় ৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২ শ’ টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মীকে জামিনে মুক্তি করেছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার ভয়ে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘সেদিন আদলত প্রাঙ্গনে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলো। আমরা ইচ্ছে করলেই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারতাম। ইচ্ছে করলে ভাংচুর, হরতাল-অবরোধ করে চাঁদপুরকে অচল করে দিতে পারতাম। কিন্তু জেলা বিএনপির সুযোগ্য আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদেরকে আন্দোলন করতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন আইনি বিষয় আইনের মাধ্যমেই সমাধান করবেন।’

‘আমরা সম্মানিত আহ্বায়কের মুক্তির দাবিতে বেশ কিছু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শেখ ফরিদ আহমেদসহ সকল নেতকর্মীর মুক্তি কামনা করে জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের প্রধান ৪ টি মসজিদে এবং প্রতেক উপজেলায় দোয়া ও মিলাদ, দেয়াল লিখন, পোষ্টার ছাপানো হবে। নেতার নির্দেশে আমরা ধৈর্য্যধারণ করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু পাশাপাশি সরকারকে হুশিয়ার করে দিচ্ছি যে অবিলম্বে আমাদের শেখ ফরিদ আহমেদসহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

চাঁদপুরের প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার পরিচালনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. সেলিম উল্লা সেলিম ও দেওয়ান সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়কে যতোটুকো গুরুত্ব ঠিক তেমনি একজন সাধারণ কর্মীরও ততটুকু গুরত্ব রয়েছে। তাই আমরা প্রতিটি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি। আজ ( গতকাল ) চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শেখ ফরিদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দিয়েছে। একটি গণতান্তিক দেশে যা আমরা কখেনো কামনা করিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বিএম হান্নান, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, দৈনিক মেঘনা বর্তার প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, চাঁদপুর দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুব আনোয়ার বাবলু, মুনির চৌধুরী, কাজী গোলাম মোস্তফা, সেলিমুচ্ছালাম, খলিল গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, অ্যাড. হারুনুর রশিদ, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান কবির, জেলা যুবদলের সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চান্দু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক অ্যাড. জাহাঙ্গির হোসেন খান, সদস্য-সচিব হযরত আলী ঢালী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল, জেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি সোয়েব মো. কলিমসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ইন্টারনেট কানেকশন নেই