Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / এক পক্ষকে ফাঁসাতে অপর পক্ষের অপহরণের নাটক

এক পক্ষকে ফাঁসাতে অপর পক্ষের অপহরণের নাটক

চাঁদপুর কচুয়ায় রাগদৈল গ্রামে এক পক্ষকে ফাঁসাতে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে গভীর নলকূপের লাইনম্যান আওনান হোসেনকে অপহরণ নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের সাদেক আলী, রুহুল আমিন,জামাল হোসেন গংদের বিরুদ্ধে।

সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেয়ার অপ্রচেষ্টায় একই বাড়ির বিল্লাল হোসেন,পবন মিয়া, সাজু ও মেহেদী হাসান গংদের ফাঁসানোর জন্য আওনান হোসেনকে কৌশলে ঢাকা সরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ লোকজন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাগদৈল গ্রাম সংলগ্ন দক্ষিন পাশে গোঘরার বিলে ওই গ্রামের সোলেমান, সাদেক, সফিউল্যাহ, রওশন আলী মালিকীয় নলকূপে আওনান হোসেন ও জাকির হোসেন লাইনম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছে।

বৃহস্পতিবার রাতে আওনান হোসেন তার অপর সঙ্গী লাইনম্যান জাকির হোসেনকে নলকূপের ঘরে ঘুমাতে যেতে বারণ করেন। পরে রাতে ঘুমানোর ঘরে আসবাবপত্র এলোমেলো ও বৈদ্যুতিক বিচ্ছিন্ন করে তাকে একদল মুখোশধারী লোকজন মুখে চাপ দিয়ে অপহরণ করেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠে। এ ঘটনায় আওনান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে পরদিন শুক্রবার কচুয়া থানায় একটি জিডি দায়ের করেন।

থানায় নিখোজ জিডির প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকালে কচুয়া থানার ওসি মো: ওয়ালী উল্যাহ অলি ও সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আবু হানিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আওনান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আলী জানান, শনিবার সকালে ঢাকা সাইনবোর্ড এলাকার মাদারটেক এলাকায় আমার বাবাকে ভগ্নিপতির বাসার সামনে পাওয়ার সংবাদ পাই। পরবর্তীতে আমার ভগ্নিপতি বাবাকে গাড়িযোগে গৌরিপুরের আমিরাবাদ সিএনজি স্টেশনে পৌছে দিলে আমরা তাকে আজ দুপুরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসি। তবে আওনাল হোসেন দাবী করেন, তাকে ঘটনার দিন রাতে কে বা কাহারা মুখে চাঁপ দিয়ে অচেতন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

স্থানীয় অধিবাসী মো: রফিকুল ইসলাম,মেহেদী হাসান ও ইউপি সদস্য গাজী মফিজুল ইসলাম জানান,আওনান হোসেন কারো প্ররোচনায় তাকে অপহরণ করেছে বলে নাটক সাজিয়েছে। মূল বিষয়টি হলো সাদেক হোসেন গংরা বিল্লাল হোসেন গংদের পাওনা এক শতাংশ সম্পত্তি শুক্রবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বুজিয়ে দেয়ার কথা ছিল। বিল্লাল হোসেন গংদের সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেয়ার ফাঁদ পেতে নিরীহ আওনান হোসেনকে অপহরনের নাটক সাজায়।

ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি মোল্লা জানান, শুক্রবার সাদেক আলী গংরা পূর্বের গ্রাম্য আদালতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিল্লাল হোসেন গংদের এক শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওনান হোসেনের অপহরণ বিষয়টি রহস্যজনক।

এ ব্যাপারে সাচার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু হানিফ জানান, পুরো বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়। আওনান হোসেন নিজে আত্মগোপন করে অন্যকে ফাঁসাতে এ নাটক সাজিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। অপরদিকে অপহরণ রহস্য ও জমিসংক্রান্ত মুল ঘটনা সমাধান করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার।

স্টাফ করেসপন্ডেট,২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০