Home / নারী / খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়নি, মানুষের পরামর্শে মামলা করি : আদালতে হ্যাপি
খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়নি, মানুষের পরামর্শে মামলা করি : আদালতে হ্যাপি

খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়নি, মানুষের পরামর্শে মামলা করি : আদালতে হ্যাপি

ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজিব ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্য তাকে নির্যাতন করেননি বলে আদালতে বেরী সাক্ষী দিয়েছে ১১ বছরের গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপি।

তাকে নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে গিয়েছিল এবং এজন্য চিকিৎসা নিতে হয়েছিল বলেও দাবি করেছে সে। রাষ্ট্রপক্ষ হ্যাপিকে বৈরী সাক্ষী ঘোষণা দিয়ে জেরা করেছেন।

বুধবার (২৪ আগস্ট) হ্যাপি ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অসমাপ্ত সাক্ষ্য দেয়। সাক্ষ্যে সে বলে, ‘আমি ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের বাসায় কাজ করতাম। সাত মাস কাজ করেছিলাম। কাজ করতে ভালো লাগত না। এজন্য শাহাদাতের স্ত্রী বকাঝকা করতেন। দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যায়। এ জন্য চিকিৎসা নিই। আসামিরা আমাকে কোনো রকম খুন্তির ছ্যাঁকা দেননি। আগে মানুষের পরামর্শে এই মামলা করি। আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করেন নাই। আমি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডাক্তারের কাছে কিছু বলেছি কি-না, আমার খেয়াল নেই’।

হ্যাপির মামা মো. সোহাগও সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন।

আগামী ৩১ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজীনা ইসমাইল। এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি আলী আসগর স্বপন, ‘এর আগে ভিকটিম হ্যাপি মামলার সাক্ষ্য দিলেও তা অসমাপ্ত ছিল। বুধবার সে আসামিদের পক্ষে কথা বলায় আমরা তাকে বৈরী সাক্ষী ঘোষণা করে জেরা করেছি। জেরায় তার শরীরে কেন জখম হয়েছিল ও কেন সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল বলে প্রশ্ন করি। জবাবে হ্যাপি দুর্ঘটনায় (পড়ে গিয়ে) এসব হয় বলে দাবি করেছে’।

স্বপন বলেন, ‘এ মামলায় গত ১৭ আগস্ট সাক্ষ্য দেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী। হ্যাপির জবানবন্দি রেকর্ডকারী এ বিচারক সাক্ষ্যে বলেছেন, হ্যাপি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। এতে হ্যাপি স্বাক্ষরও করেছে’।

জামিনে থাকা মামলার দুই আসামি ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রী নিত্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী নজীব উল্লাহ হিরু তাকে জেরা করেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (২) খ ধারায় শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাজধানীর কালশী থেকে নির্যাতনে মারাত্মক আহত অবস্থায় হ্যাপিকে উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। তবে ওই দিন বিকেলে শাহাদাত মিরপুর থানায় তার বাসার গৃহকর্মী হারিয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

রাতে সাংবাদিক খন্দকার মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রী নিত্যকে আসামি করে মিরপুর মডেল থানায় নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে শাহাদাত ও নিত্যের বিরুদ্ধে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিক আহমেদ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি চার্জশিট আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৩ অক্টোবর দিনগত রাতে মালিবাগের পাবনা গলিতে তার বাবার বাড়ি থেকে নিত্যকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আদালতের অনুমোদনক্রমে তাকে তিনদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে ১ ডিসেম্বর নিত্যকে জামিন দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত।

অন্যদিকে শাহাদাত গত বছরের ৫ অক্টোবর সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। এ আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

আদালতের নির্দেশে ০৮ অক্টোবর থেকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে ০৮ ডিসেম্বর শাহাদাতের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। (উসৎ-বাংলানিউজ)

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৪:১০ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬, বুধবার
ডিএইচ