Home / আরো / শিক্ষাঙ্গন / শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ হচ্ছে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ হচ্ছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরি করা হচ্ছে। দেশের ৩৬ হাজার সরকারি, এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজকে ভাগ করা হচ্ছে। অসাধারণ, অতি উত্তম, উত্তম, চলতিমান ও নিম্নমান এ পাঁচ ভাগে ভাগ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ১৪টি মানদন্ডের ভিত্তিতে এ ভালো-মন্দ নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাবে এক ক্লিকেই। এতে অফিসে বসেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাজিরাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আপডেট তথ্য জানতে পারবে শিক্ষা প্রশাসন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এ লক্ষ্যে কাজ করছে। কাজটা শুরু হয়েছিল সাবেক শিক্ষাসচিব মো. নজরূল ইসলাম খানের উদ্যোগে দেড় বছর আগে।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ডিআইএতে পিয়ার ইন্সপেকশন সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শন করা হয়। মূলত এ সফটওয়্যারের মাধ্যমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাটাগরি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। একই সঙ্গে ডিআইএতে নবনির্মিত শেখ রাসেল স্মৃতি সম্মেলন কেন্দ্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স এবং ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ম্যুরাল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। ডিআইএর পক্ষে প্রতিবছর তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। ফলে এক প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের মধ্যে একবারের বেশি পরিদর্শনের সুযোগ থাকে না। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো আপডেট তথ্যও পাওয়া যায় না।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনতে পেয়ার ইনস্পেকশনের সূচনা করে ডিআইএ। এ লক্ষ্যে গত বছরের জুন ও অক্টোবর মাসে দু’টি কর্মশালা এবং এর পর একটি সেন্ট্রাল ওয়েবসাইট করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, দক্ষিণ বনশ্রী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মদিনাতুল উলুম মডেল মহিলা কামিল মাদ্রাসা, মহানগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মমতাজ উদ্দিন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আজ ডেমো প্রদর্শন করবে ডিআইএ।

ডিআইএর সেন্ট্রাল সফটওয়্যারে ৩৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির জন্যই পেজ বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য আপডেট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির তথ্য, শিক্ষকদের চাকরিকালীন তথ্য ও ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত, ক্লাস ও শিফট অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছবিসহ যাবতীয় তথ্য, প্রতিদিনের হাজিরা ইত্যাদি আপলোড করতে হবে। এ ছাড়া ভালো-মন্দ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য ১৪টি মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৪ টি মানদন্ড হলো প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কার্যক্রম মূল্যায়ন, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী কৃতিত্ব মূল্যায়ন, শিক্ষকের গোপনীয় অনুবেদন, ক্লাস রুটিন পর্যালোচনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শ্রেণিকক্ষ, পরিবেশ, স্যানিটেশন ও সাঁতার, শিক্ষার্থীদের আসন ব্যবস্থা, মিলনায়তন-সংক্রান্ত তথ্য, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই এবং আয়-ব্যয় বিবরণী।

ডিআইএ সূত্র জানায়, মূলত এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগওয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এতে সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে মনিটর করা যাবে ও কাজের সর্বশেষ অবস্থা দেখে প্রতিষ্ঠানকে মেসেজ দেয়া যাবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভয়েস মেসেজ বা নির্দেশনাও দেয়া যাবে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত শ্রেণিবিন্যাস করে সার্বিক চিত্র প্রতিবেদন আকারে পাওয়া যাবে।

ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের জন্যই মূলত: এ উদ্যোগ। আমরা ডেমো প্রদর্শন করছি। এরপর এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাইব। অনুমোদন মিললে দু’ থেকে তিন মাসের মধ্যে পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করতে পারব। ’(দৈনিক শিক্ষা বার্তা)

নিউজ ডেস্ক
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৭:৩০ পিএম, ৫ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহ্স্পতিবার
এজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাহাড়ের কোলে খোলা আকাশের নিচে অদ্ভুত হোটেল

বাথরুম, ...