Home / সম্পাদকীয় / চাঁদপুরে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে : সচেতনতা জরুরি

চাঁদপুরে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে : সচেতনতা জরুরি

দেশের বিভিন্ন জেলার মতো চাঁদপুরেও আত্মহত্যা একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মানুষের মৃত্যুর ক’টি সাধারণ কারণের মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম। চাঁদপুরে আত্মহত্যার এ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই।

ভারতের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বিলেতের লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফেরার সময় তার প্রেমিকা তাকে ফেলে চলে যাওয়ার মুহূর্তে বিমানে উঠার সময় বলেছিলেন,‘ তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যার মত কঠিন পথ বেচে নেবো।’

ভারতের ওই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ তার জবাবে বলেছেন ,‘কেউ কোনো দিন কাউকে বলে আত্মহত্যা করে না।’

মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও প্রেমে ব্যর্থতায় কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ছাড়াও অন্যান্য কারণেও মানুষ আত্মহত্যার মত জঘন্য বিষয়টি বেছে নিচ্ছে। ইদানিং চাঁদপুরে অহরহ আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটছে ।

বুধ ও বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর ) চাঁদপুরে ৫ টি আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে। কিছুদিন পূর্বে খোদ চাঁদপুর শহরে পর পর আত্মহত্যা করা ও পিতামাতার অনুরোধে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে একটি মেয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে মুক্তি পায় ।

চিকিৎসকদের মতে, কীটনাশক ও গলায় ফাঁসি দিয়েই বেশিরভাগ আত্মহত্যা ঘটে থাকে। প্রেমে ব্যর্থতা, যৌতুক,পারিবারিক অশান্তি ও দরিদ্রতা আত্মহত্যার কারণও হতে পারে ।

তবে ঝিনাইদহ ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মহত্যার কারণ হিসাবে যৌতুক, ারিবারিক অশান্তি ও দরিদ্রতাই প্রতীয়মান হয়েছে বলে পত্র-প্রত্রিকার মাধ্যমে জানা যায় ।

এ ছাড়া মানসিক রোগ বিশেষ করে বিষন্নতা,ব্যক্তিত্বে সমস্যা, মাদকাসক্তি, দীঘর্ মেয়াদি শারীরিক ব্যথা-বেদনা,অসহ্যযন্ত্রণা ও ক্যান্সারের মতো প্রাণসংহারী রোগ ইত্যাদি আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়, অনুশাসনের অভাব, ভিনদেশি অপসংস্কৃতির অনুকরণ দ্বারা উদ্বুদ্ধ আচরণগত ব্যক্তিত্বের দূষণগ্রস্থ্ ও মানসিক বিকারগ্রস্থতা এ আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটছে।

আমাদের ধারণা, কীটনাশক দ্রব্যের বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মানসিক রোগ বিশেষ করে বিষন্নতা রোগের যথাযথ চিকিৎসা, দরিদ্র জনগণের আর্ত-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত পদক্ষেপ আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হতে পারে।

এ ছাড়াও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এ বিষয়ে দেশব্যাপি সমীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাপক সামাজিক গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে ।

সম্পাদকীয় : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৮:০০ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৬, শুক্রবার
এজি/ডিএইচ

One comment

  1. Nayeem uddin khan

    ইদানিং লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী উপজেলা হতে অনেক গৃহিনী সন্তানদের ভাল স্কুলে পড়ানোর অযুহাতে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে শশুড় শাশুড়ী দেবর বাশুরের সাশন সোহাগ ছেড়ে চাঁদপুর সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এদের অধিকাংশের স্বামী প্রবাসী। নতুন স্থানে এসে অভিভাবক শুন্য হয়ে বিভিন্ন অসমাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। মা মেয়ে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে, অতপর লোক লজ্জায় আত্নহননের পথ বেঁচে নয়।এসমাজিক অবক্ষয়ের পথ রোদ করতে পারে, প্রবাসী স্বামী আর প্রবাসীর শশুড় শাশুড়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দেশে ফিরেছেন ছেলে বাপ্পি : নায়করাজের দাফন হবে বুধবার

কেন্দ্রীয় ...