Home / আরো / ফিচার / একটি বিয়ে : দু’পরিবারের কান্না
প্রতীকী ছবি

একটি বিয়ে : দু’পরিবারের কান্না

বাল্য বিবাহ না বুঝার কারণে একটি ভুলে একাধিক জীবন বিপথে যায় সাথে কান্না অনেক পরিবারের সঙ্গী হয়। যাদের মেয়ে আছে, তারা মেয়েটিকে দ্রুত বিয়ে দিয়ে ঝামেলা মুক্ত হবেন, এ চিন্তায় অস্থির থাকেন।

এ দ্রুত বিয়ে দেওয়ার চিন্তা বেশির ভাগ সময় যে অনেকগুলি জীবনকে ভয়াবহ বিপদের দিকে নিয়ে যায় তা কি আমরা কখনও চিন্তা করি।

দ্রুত বিয়ে দিতে গিয়ে ঘটকের লোভনীয় কথায় স্বপ্নময় ছেলে হাত ছাড়া হওয়ার ভয়ে মেয়ের বয়স, পাত্রের চরিত্র কোনটাই চিন্তুা করার সুযোগ থাকে না।

আর স্বপ্নময় পৃথিবীতে বিচরণে সুযোগে দুঃখগুলি কখন যে আপনার পরিবারে প্রবেশ করে, আপনি বুঝতেও পারেন না। তখন থেকেই শুরু হয় আপনার দু:খের অনাগত দিনগুলি।

বিবাহের পূর্বে অভিভাবক হিসাবে আপনার করণীয়-
আপনি যদি মেয়ের অভিভাবক হন, তাহলে আপনার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পূর্বে প্রথমে দেখবেন মেয়েটি বয়সের দিক দিয়ে পরিপক্ক হয়েছে কিনা।

পরিপক্কতা বলতে শুধু আইন কর্তৃক বেধে দেওয়া ১৮ বছর নয়। ১৮ বৎসর হলেই যে, আপনার মেয়েটি পরিপক্ক হয়েছে, এটা ভাবার কোন কারণ নেই। একজন মানুষ বিকশিত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে পারিবারিক পরিবেশ, শারীরিক বৃদ্ধি, সুস্থ্যতা, মানসিক দৃঢ়তা। যা অভিভাবকরাই ভাল বুঝতে পারেন।

এর জন্য আপনি আপনার মেয়েটির চলাফেরা, কথা বার্তা, আচার-আচরন লক্ষ্য করলেই অতি সহজে বুঝতে পারবেন। এটা বুঝার জন্য কোন ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। যদি মনে হয় মেয়েটি সকল বিষয়ে পরিপক্ক ঠিক তখন আপনি বিয়ে দিয়ের কথা চিন্তা করতে পারেন।

তবে প্রস্তাবিত পাত্রটির সাথে উভয়ের শারীরিক সাদৃশ্য কাছাকাছি কিনা, পাত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে নেশাগ্রস্ত কিংবা অন্য কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্কসহ গোপনে বিয়ে করেছে কিনা। দু’পরিবারের সামাজিক অবস্থান, আচার-আচরণ, পারিবারিক অবস্থার ভারসাম্যতা আছে কিনা। ছেলে মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিপূরক কিনা, বয়সের পার্থক্য অসম কিনা। এ বিষয়গুলো বিয়ের আগে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে।

বাল্য বিবাহ কেন দুই পরিবারের কান্না-
যদিও আমরা কাগজে কলমে আধুনিক যুগ সমাপ্ত করে ডিজিটাল যুগে অবস্থান করছি। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগেও আমাদের দেশে বাল্য বিবাহ হচ্ছে। বাল্য বিবাহের আধিক্য যদিও নিম্নবিত্ত পরিবারে অধিক। পক্ষান্তরে মধ্যবিত্ত পরিবারেও হচ্ছেনা তা নয়।

আপনি পিতা কিংবা মাতা কিভাবে আপনার আদরের সন্তানটিকে বিপদজ্জনক জীবনে সমর্পণ করছেন, সুখের আশায় অপরিণত বয়সে সন্তানকে বিয়ে দিয়ে দুঃখটাই কিনে নিলেন?

দুঃখটা বলছি এ জন্য যে, ধরুন, আপনার মেয়েটির বয়স ১৫ বৎসর। ১৫ বৎসর হলো না বুঝার একটি দুরন্তপনা সময়। এই সময়টা সে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ, ভাই-বোনদের সাথে ঝগড়া করার সময়। যে সময়টা সে নিজেকে চিনতে বা বুঝতে অতোটা পারে না।

এ সময় মেয়েদের শারিরীক কোনো বিষয়ে পরিবর্তন ঘটলে, অনেক মেয়ে বিষয়টি মায়ের সাহায্য নিয়ে বিষয়টি সমাধান করে। যে নিজের শারীরিক বিষয়টি বুঝার বয়সে থাকেনা, কিভাবে সে অপরিচিত একটি পরিবেশে গিয়ে ওই পরিবারের লোকজনকে আপন করে নিবে?

যদি আবার বড় বউ হিসাবে ওই পরিবারে তার পদার্পণ ঘটে। তাহলেতো আরও ভয়ংকর বিপদ। বড় বউ হিসাবে তখন তাকে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পুরো পরিবারকেই সামলানোর দায়িত্ব তার নিকটে চলে আসে।

বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে বিষয়গুলি আদান প্রদান হয়, যেমন- এক অপরের প্রতি ভালবাসা, দুইজন দুইজনকে অনুভব করা, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য, স্বামী-স্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।

এ সময়টাতে একজন পুরুষ কোন অস্থির জায়গাটা অবস্থান করে আপনিই চিন্তা করুন? একটি অবুঝ মেয়ে যে বউ কি এটাই বুঝে না, সে এ অস্থির মানুষটিকে কিভাবে গ্রহণ করবে? পবিত্র বন্ধনে স্বামী-স্ত্রীর সে সময়টি অবুঝ স্ত্রীর নিকট বিভিষিকাময় ও ভয়ঙ্কর হিসাবে আবির্ভূত হয়। আর এ ভয় প্রতিদিন তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে থাকবে। যার ফলে স্বামী, স্বামীর পরিবারের লোকজনের আচরণ মেয়েটির নিকট ক্রমান্বয়ে ভীতিকর হয়ে উঠে। এর ফলে একবার সে বাপের বাড়ি গেলে আর স্বামীর বাড়িতে আসতে চায় না। কিন্তু তার মা-বাবা জোরপূর্বক তাকে আসতে বাধ্য করে। এভাবে দেখা গেলো অপরিণত বয়সে সে মা হলো। এ মা হওয়ার ঘটনাটিও না বুঝার বয়সের মধ্যেই ঘটলো। এখন তার কি বেহাল অবস্থা হবে, আপনারাই বলেন?

যে বিষয়টি ছেলে মেয়ের জন্য একটা আনন্দের, ভালোবাসার, ভালোলাগার সময় থাকার কথা ছিলো। কিন্তু অভিভাবকের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দুঃখ, কান্না তাদের সঙ্গী হতে শুরু করলো।

আর এ না পাওয়া সকল বিষয়গুলি একত্রিত হয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে ভাললাগার জায়গায় স্থান দেয়ার মতো কোনো বিশেষণ খুঁজে পায়না। এই না পাওয়ার কারনে দেখা গেল যে, স্বামীটি অন্য মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় অথবা তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

যদি সম্পর্কটা ছিন্ন হয় তখন আপনার মেয়েটাকে নিয়ে কি করবেন? দেখা যাবে সে প্রতিবন্ধি সন্তানের মত আপনার এবং পরবর্তীতে আপনার ছেলেদের বোঝা হয়ে থাকতে হবে। আপনার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিকশিত হওয়া একটি ফুল প্রস্ফুটনের আগেই, সৌরভ না ছড়াতেই আপনি ছিঁড়ে ফেললেন। দায়ী কে?

লেখক- খন্দকার মোহাম্মদ ইসমাইল

লেখক- খন্দকার মোহাম্মদ ইসমাইল
উপ-পরিদর্শ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, চাঁদপুর।

: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১: ৪৫ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার
ডিএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা

ড. ...